সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৬

৯০ দশকের কিশোর ধারাবাহিকগুলো...




আজকের দিনে যদি কেউ বিটিভি দেখতে বসে তাহলে ধরে নিতে হবে আজ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোন খেলা আছে অথবা আজকে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি হবে। অথবা কেবল লাইন সংযোগটি সাময়িক সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অথচ একসময় শিশু-কিশোরদের মধ্যে একধরনের আলোড়ন পড়ে যেত টিভির সিরিয়াল দেখার জন্য।
রাত আটটা বাংলা সংবাদ শেষ হলেই পড়ার বই, লেখার খাতা বন্ধ করে দেখতে বসে যেত আলিফ লায়লা, সিনবাদ, রবিনহুডের মত জনপ্রিয় বিদেশি ধারাবাহিকগুলো। চমক থাকতো দশটার ইংরেজি সংবাদের পরেও। তখন ছিল হারকিউলিস, এক্স ফাইলের হাজির হওয়ার সময়। জনপ্রিয় ছিল ম্যাকগাইভার রোবোকপের মত ধারাবাহিকগুলো। সেই উত্তেজনা বর্তমান যুগের শিশুরা পাচ্ছে না। আসুন মনে করি সেই জনপ্রিয় ধারাবাহিকগুলো।

আলিফ লায়লা (দ্যা অ্যা রাবিয়ান নাইটস, এক হাজার এক রাত্রি) 


আলিফ লায়লা দিয়ে লেখা শুরু করার একটি কারণ আছে। যদি জনপ্রিয়তা বিচার করা হয় তাহলে শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল সাগর ফিল্মসের তৈরি আলিফ লায়লা। ডিডি ন্যাশনাল এবং এ আর আই ডিজিটালে চলা তুমুল জনপ্রিয় এই ধারাবাহিকটি ডাবিং করে চলত বিটিভিতে। আলিবাবা, আলাদিন, সিনবাদ, খলীফা হারুন অর রশিদ, তিন কালান্দার ইত্যাদি গল্পগুলো শিশু মনে বিস্তার করত। শিশুদের কল্পনার দুয়ার এই কাহিনীগুলোর মাধ্যমেই খুলে যেত। আলিফ লায়লার বেশকিছু কাহিনী শিক্ষণীয়ও ছিল। এছাড়া আলিফ লায়লার বিভিন্ন চরিত্র অনুসারে বিভিন্ন প্লাস্টিক ও টিনের তৈরি বিভিন্ন খেলনাও পাওয়া যেত। যেমন সুলেমানী তলোয়ার, বিচ্ছু ইত্যাদি।

দি অ্যাডভেঞ্চার অফ সিনবাদ:



যদিও অ্যারাবিয়ান নাইটস এর একটি অংশ সিনবাদ, তবে পৃথক ধারাবাহিক হিসেবে এটিও শিশুকিশোরদের মনে দাগ কেটে গেছে। ছেলেবেলার যত সাহসিকতা, দস্যিপনা তার কিছুটা যে সিনবাদ ধারাবাহিক থেকে নেয়া তা বলাটা বোধহয় ভুল হবে না। কানাডায় নির্মিত সিরিয়ালটির প্রধান চরিত্র সিনবাদই যে শুধু জনপ্রিয় ছিল তা নয়। তার সঙ্গী রঙা, ফিরোজ, ডুবারও শিশুদের কাছে যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল।  

হারকিউলিস

 
দেবতা জিউসের পুত্র আগে দেখা করতে আসত শনিবার রাত দশটার ইংরেজি সংবাদের পর। দুর্দান্ত সব পর্বে মাতিয়ে রাখত শনিবারের রাত। যদিও এটি একটি পৌরাণিক কাহিনী। তবে আনন্দদানের উদ্দেশ্যে  এর সাথে আরও কিছু কাহিনী যোগ করে তৈরি করা হয় ধারাবাহিকটি।

রবিনহুড: 



ছোটবেলায় তীর-ধনুকের সাথে প্রথম পরিচিতি এই রবিনহুড ধারাবাহিক দিয়েই। রবিনহুডের অসাধারণ নিশানাবাজি আমাদেরও মনে প্রভাব ফেলত। রবিনহুড আমাদের শিখিয়েছিল কিভাবে গরিবের উপকারে নিজেদের তুলে ধরতে হয়। কিভাবে অসহায়দের পাশে দাড়াতে হয়।

রোবোকপ:


বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত রোবট মানেই রোবোকপকে বুঝত এখনকার শিশু-কিশোররা। অন্যান্য ধারাবাহিকে কল্পনার রাজ্যে বিচরণ থাকলেও এতে কিছুটা বাস্তবতার মিশেল ছিল। রোবোকপের পায়ের মাঝখান থেকে রিভলবার বের করা সেই স্টাইল আজও অনুকরণীয়। ম্যাকগাইভার ছুরির মতই বাজারে ব্যাটারি চালিত খেলনা রোবোকপ ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল।

ম্যাকগাইভার:            



কোন অস্ত্র ছাড়া শুধু বুদ্ধি দিয়েও যে শত্রুকে পরাস্ত করা যায় তা ছোটবেলায় আমরা শিখেছি ম্যাকগাইভারের কাছ থেকে। বুদ্ধি ও কৌশলের অপূর্ব সমন্বয় ছিল ম্যাকগাইভার। কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল এই ধারাবাহিকটি। আরও জনপ্রিয় ছিল সুইস আর্মির তৈরি করা চাকু। যেটা ম্যাকগাইভার চাকু হিসেবে সুপরিচিত ছিল। যা দিয়ে ধারাবাহিকে নানা অসাধ্য সাধন করতেন ম্যাকগাইভার স্বয়ং।

এক্স ফাইলস:



তখনকার সময় ভৌতিক ধারাবাহিক বলতে আমরা এক্স ফাইলসকেই বুঝতাম। দ্যা ট্রুথ ইজ আউট দেয়ার এই শিরোনামে আমাদের কাছ হাজির হত এক্স ফাইলস। যদিও এটি বাংলায় ডাবিং করা ছিল না তবুও একটু ভয়ের স্বাদ নিতে লুকিয়ে তখনকার শিশু-কিশোররা এক্স ফাইলস দেখতে বসে যেত।

বর্তমানে অনেক বিদেশি সিরিয়াল দেখা হয় কিন্তু সেরকম রোমাঞ্চ হয়তো খুঁজে পাওয়া যায়না। ধারাবাহিকের পরবর্তী পর্বের প্রতীক্ষা হয়না বহুদিন।

1 টি মন্তব্য: